হাতি আর পিঁপড়া
এক রাজার এক হাতি ছিল। সে হাতির বড় বড় কান। মোটা মোটা পা। হাতি হাঁটে থপাস থপাস। হাতির পায়ের তলায় পোকামাকড় থেঁতলে যায়। পোকামাকড়ের ভাই-বোনেরা কাঁদে। কেঁদে কেঁদে বলে, মরে গেলাম, আমাদের বাঁচাও।
কেউ ওদের বাঁচাতে আসে না। পোকামাকড় এল ফুলপরীর কাছে। সব কথা শুনে ফুলপরী খুব দুঃখ করল। ফুলপরী পিপড়াকে ডেকে বলল, ভাই পিপড়া, তুমি কিছু কর।
পিপড়া হেসে হেসে বলল, আমি চললাম হাতির কাছে।
পিপড়া চুপি চুপি এসে হাতির কানের ভেতরে ঢুকে গেল।
হাতি বলল, কে রে তুই?
পিপড়া ॥ আমি পিপড়া।
হাতি ॥ আমি হাতি। তোকে মেরে ফেলব।
পিপড়া ॥ বড়াই করো না, ভাই হাতি।
হাতি ॥ চুপ কর, পিপড়া। কি সাহস! আমাকে উপদেশ দিস!
পিপড়া ॥ তাহলে এখন মজা দেখ।
পিপড়া হাতির কানের ভেতর কুটকুট করে কামড় দিতে লাগল। হাতি কান ঝাড়তে লাগল। পিপড়া তবু যায় না। কুটকুট কামড় দেয়। পিপড়া কামড়ায়, আর হাতি কান ঝাড়ে। মহা মুশকিল!
কামড়ের চোটে হাতি লাগল কাঁদতে। পিপড়া দেয় কামড়। হাতি দেয় লাফ।
হাতি বলে, গেলাম। আমাকে বাঁচাও। আমাকে মাফ করে দাও।
পিপড়া ॥ আর বড়াই করবে?
হাতি ॥ আর কোন দিন বড়াই করব না।
পিপড়া ॥ ছোটকে আর অবহেলা করবে?
হাতি ॥ কাউকে অবহেলা করব না।
তখন ছোট পিপড়া বড় হাতির কানের ভেতর থেকে বেরিয়ে এল। হাতি তার শুঁড় এগিয়ে দিল। পিপড়া শুঁড়ের ডগায় গিয়ে বসল। এবার সবাই খুশি। হাতি পিপড়াকে নিয়ে নাচতে লাগল। অন্য পোকামাকড়ও এসে যোগ দিল। সকলে মহা আনন্দে নেচে চলল।






