কাটুমের বাড়ি

কাটুমের বাড়ি

কাটুমের বাড়ি

(দিঘির পাড়ে একটি বড় আম গাছ। গাছের একটি ডাল ঝুলে পড়েছে পানির ওপর। সে গাছে থাকে মা কাঠবিড়ালী আর তার ছেলে কাটুম। গাছের নিচে একটি হাঁস হাঁটছে। ছোট্ট পাখি টিনি কাটুমের বন্ধু। সে মাঝে মাঝে কাঁঠাল গাছ থেকে উড়ে আসছে কাটুমের কাছে। কাটুম বাদাম খাচ্ছে কুট কুট কুটুস।)

টিনি ॥ কি করছ ভাই কাটুম একলাটি বসে? ও, কুটুস কুটুস করে বাদাম খাচ্ছ। বাদাম খেতে আমারও খুব ভাল লাগে।

কাটুম ॥ খেতে চাও তাই বল। এই নাও. . . . .

(বাতাসে গাছের পাতা নড়ে উঠল। কাটুম তরতর করে ওপরে উঠে গেল। টিনিও উড়ে গিয়ে তার পাশে বসল।)

টিনি ॥ (কাটুম বাদাম দিল। টিনি খেতে খেতে বলল) এস আমরা ছুটাছুটি খেলি।

কাটুম ॥ কী মজা! তুমি উড়ে এ ডাল থেকে ও ডালে যাবে আর আমি লাফিয়ে লাফিয়ে তোমাকে ধরতে যাব।

(কাটুম ও টিনি খেলছে। এমন সময় কাটুমের মা ডাকল।)

মা ॥ অত ছুটাছুটি কর না। তোমাকে কতবার বারণ করেছি।

কাটুম ॥ আমি টিনির সঙ্গে খেলছি, মা।

মা ॥ যদি হাত পা ফসকে মাটিতে পড়ে যাও, তখন কি হবে?

কাটুম ॥ পড়ে গেলে আবার উঠে এসে তোমার কাছে বসব, মা।

মা ॥ মাটিতে পড়লে অনেক বিপদ, কাটুম।

কাটুম ॥ কি বিপদ?

মা ॥ কত রকম বিপদ আছে। মাটিতে কুকুর, বিড়াল, শিয়াল আরও কত কি আছে।

কাটুম ॥ (পানির দিকে তাকিয়ে) আচ্ছা মা, ঐ পানিতে কী আছে?

মা ॥ খবরদার! খবরদার! পানিতে নামবে না। ওখানে তো আরও কত রকম বিপদ। তাছাড়া তুমি সাঁতার জান না। যাই, তোমার জন্য খাবার নিয়ে আসি।

(মা খাবার আনতে চলে যায়। কাটুম বসে বসে নিজের মনে ভাব।)

কাটুম ॥ গাছে থেকে থেকে আর একটুও ভাল লাগে না। পানিতে মাছেরা থাকে। তাদের কেমন মজা। আহা, একবার যদি পানিতে নেমে মাছেদের দেশে যেতে পারতাম!

(ঝুলে পড়া গাছের ডালটিতে বসে কাটুম দেখে পানিতে তার ছায়া পড়েছে।)

কাটুম ॥ বাঃ! পানিতে কী সুন্দর মুখ দেখা যায়! আমাকে দেখতে কত সুন্দর লাগছে।

(পানি থেকে একটা মাছ মুখ তুলে বলল।)

মাছ ॥ ও কাটুম, দূর থেকে মুখ দেখছ বুঝি? চলে এস এখানে। আরও ভাল দেখতে পাবে। (ঝপাস! পানির উপর লাফিয়ে পড়ল কাটুম। পানি ছিটকে পড়ল চারদিকে। কাটুম হাবুডুবু খেতে লাগল।) মাছেরা সব দেখতে এল কাটুমকে।

টেংরা ॥ (কাটুমের গায়ে কাঁটা ফুটিয়ে দিয়ে) নতুন এলে, একটু কাঁটা ফুটিয়ে দিলাম। ব্যথা পেলে নাকি?

মাগুর ॥ (খোঁচা দিয়ে) ওরে বিড়াল, মাছ খাবি? ভারী লোভ তো রে তোর। আয়, তোকেই একটা গুঁতো মেরে দিই।

বোয়াল ॥ (মস্ত বড় হাঁ করে) কে তুমি?

কাটুম ॥ আমি কাটুম। কিন্তু অত বড় হাঁ করছ কেন?

বোয়াল ॥ (ছড়া কেটে)
চাটুম চুটুম কাটুম গো,
মিষ্টি বলে মালুম
কাটুস নয় কুটুস নয়
একটি বারেই খালুম।

রুই ॥ ওমা, এটা দেখছি বনবিড়াল।

কাতলা ॥ না, না, এটা গেছো বাঘের ছানা। দেখছ না গায়ে ডোরা কাটা দাগ।

বোয়ালের বাচ্চা ॥ আমি ওর চোখ খাব।

বোয়াল ॥ (কাটুমকে বলে) দাওতো তোমার চোখ দুটো। বায়না যখন ধরেছে, তখন আর কি হবে। চটপট দিয়েই দাও।

কাটুম ॥ (ভয়ে কাঁদতে শুরু করে) মা তুমি কোথায়? বাঁচাও আমাকে! ওরা আমাকে খেয়ে ফেলতে চায়।

(কাটুমের কান্না শুনে ছুটে আসে হাঁস আর টিনি। হাঁস কাটুমকে টেনে মাটিতে তুলে আনে।)

হাঁস ॥ বড় বোকা ছেলে তো তুমি? ভাগ্যিস আমরা কাছে ছিলাম। তা না হলে কি দশাই হত।

টিনি ॥ পা পিছলে পড়ে গিয়েছিলে বুঝি?

কাটুম ॥ না, আমি নিজেই লাফ দিয়েছিলাম।

হাঁস ॥ অ্যাঁ, কী সর্বনাশ! অমনটি আর কখনো করতে যেয়ো না। তোমার জায়গা হল গাছ আর মাছের বাড়ি হল পানি। যার যেখানে বাড়ি তার সেখানেই থাকা ভাল। মাছেরা কি গাছে ওঠে?

কাটুম ॥ না।

হাঁস ॥ তাহলে তুমি নিজের বাড়ি ছেড়ে পরের বাড়িতে গিয়েছিলে কেন? তুমি তো সাঁতার জান না। কোনদিন আর এ ভুল কর না।

(খাবার নিয়ে মা এল।)

মা ॥ কাটুম, তোমার গা ভেজা কেন? নিশ্চয় পানিতে পড়েছিলে। যা দুষ্টু হয়েছ তুমি।

কাটুম ॥(মায়ের কোলে মাথা রেখে) মা, পানিতে আর নামব না আমি। আমি গাছের ডালে ডালে পাতায় পাতায় খেলা করব। গাছ আর পাতা আমার বাড়ি।

মা ॥ মায়ের কথা না শুনলে এমনি বিপদ হবে।

কাটুম ॥ আমি আর তোমার অবাধ্য হব না মা।

টিনি ॥ মায়ের মতন নাই বড় সম্পদ,
শুনলে মায়ের কথা হয় না বিপদ।


পোস্টটি শেয়ার করতে ক্লিক করুন
Scroll to Top