পিঁপড়ে ও ঘুঘু
ছোট্ট এক পিঁপড়ে এক দিন খাবারের খোঁজে বনের পথে চলেছে। পথের দু পাশে বড় বড় গাছ, লতাপাতা, ঘাস। তারই পাশ দিয়ে ছোট্ট পিঁপড়ে আস্তে আস্তে হাঁটে। হাঁটতে হাঁটতে বেলা বাড়ে।
বনের ধারে বয়ে চলেছে একটি নদী। পিপাসায় কাতর ক্লান্ত পিঁপড়ে। ধীরে ধীরে সে নদীর পাড় বেয়ে নামতে শুরু করে। পানির কাছে সে পৌঁছেও যায়। সাবধানে পানির ধারে গিয়ে সে পানি খায়। নদীতে তখন অনেক ঢেউ।
পানি খেতে গিয়ে কোন ফাঁকে ঢেউয়ের ধাক্কায় ভেসে চলল ছোট্ট পিঁপড়ে। তীরে ওঠার অনেক চেষ্টা করল সে। কিন্তু কিছুতেই উঠতে পারল না।
নদীর তীরে গাছের ডালে বসে ছিল এক ঘুঘু। ঘুঘু দেখল ছোট্ট পিঁপড়ে ভীষণ বিপদে পড়েছে। সে যে কোনো সময় ডুবে যেতে পারে। কী করা যায়? চট করে ঘুঘুর মাথায় একটা বুদ্ধি এল। সে ঠোঁট দিয়ে গাছের একটা পাতা ছিঁড়ে ফেলে দিল নদীর পানিতে।
পাতাটা পড়ল পিঁপড়ের সামনেই। সে শুনতে পেল ঘুঘু পাখিটা বলছে : ও ভাই পিঁপড়ে, শিগগির পাতার ওপর ওঠ। নইলে ডুবে মরবে।
ছোট্ট পিঁপড়ে হাঁপাতে হাঁপাতে সাঁতার কেটে পাতার ওপর উঠে বসে। ঘুঘু তখন পাতাটা তার ঠোঁট দিয়ে ডাঙায় তুলে আনে। বেঁচে যায় ছোট্ট পিঁপড়ে। তখন ঘুঘুকে তার মনে হয় সব চেয়ে ভাল বন্ধু।
কয়েক দিন পরের কথা। বনে এক পাখিশিকারি এল পাখির খোঁজে। শিকারি ঘুরতে ঘুরতে এসে দাঁড়ায় নদীর ধারে সেই গাছটির কাছে। ঘুঘু তখন সেই গাছেরই এক ডালে বসে ছিল। শিকারি এ দিক ও দিক তাকিয়ে গাছের ডালে বসা ঘুঘুটাকে দেখতে পায়। ঘুঘুকে তাক করে সে তার ধনুতে তীর লাগায়।
ছোট্ট পিঁপড়ে তখন গাছের নিচেই ছিল। শিকারি তার ধনুক থেকে যেই তীরটা ছুড়তে গেছে, অমনি পিঁপড়ে কুটুস করে তার পায়ে বসিয়ে দিল এক কামড়। শিকারির হাত গেল কেঁপে। উহ্! বলে সে মাটিতে বসে পড়ল। ততক্ষণে তীরটি নিশানা হারিয়ে অন্য দিকে ছুটে গেছে।
ঘুঘু শুনতে পেল ছোট্ট পিঁপড়ে তার সরু গলায় চেঁচিয়ে বলছে : ভাই ঘুঘু, পালাও। নইলে তীর খেয়ে মরবে।
পিঁপড়ের কথা শুনে ঘুঘু ফুড়ুৎ করে উড়ে গেল। বসল অন্য গাছের ডালে।
শিকারি অসহায় চোখে কত ক্ষণ এ দিক সে দিক তাকাল। কিন্তু ঘুঘুটাকে দেখতে না পেয়ে আস্তে আস্তে বনের অন্য দিকে চলে গেল। কিছু ক্ষণ পর ডাল থেকে মাটিতে ঘাসের ওপর নেমে এল ঘুঘু। ডানা ঝাপটে সে ঘু-ঘু করে গান গেয়ে ওঠে।
পিঁপড়ে মনের খুশিতে নদীর ধারে গাছের নিচে ঘুরে ঘুরে নাচে। ঘুঘুও মনের আনন্দে এ ডাল থেকে ও ডালে উড়ে বেড়ায়।




