হলুদ টিয়া সাদা টিয়া (মারমা রূপকথা) – বাংলা রূপ: মাউচিং

হলুদ টিয়া সাদা টিয়া (মারমা রূপকথা)
– বাংলা রূপ: মাউচিং

অনেক দিন আগের কথা। এক গ্রামে এক জুমচাষি দম্পতি ছিল। তাদের একটি মেয়ে ছিল। খুবই সুখে দিন কাটছিল তাদের। প্রতিদিন অতি প্রত্যুষে ঘুম থেকে উঠে ওই দম্পত্তি রান্না-বান্না সেরে, খেয়ে, জুমচাষের কাজে বেরিয়ে পড়ত। মেয়েটিকে ঘরে রেখে যেত। সে ঘর পাহারা দিত আর ঘয়ের খুঁটিনাটি কাজ করত। সন্ধ্যায় মা-বাবা ফিরে আসত। আবার রাতের রান্না সেরে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ত। এভাবে তাদের দিন অতিবাহিত হতে লাগল। একদিন তারা মেয়েকে ধান শুকাতে বলে গেল। মা-বাবা বেরিয়ে যাবার পর তাদের নির্দেশমতাে উঠানে ধান শুকাতে দিল। পাশে বসে সে পাহারা দিতে লাগল যাতে কোনাে পশুপাখি খেতে না-পারে। ধান প্রায় শুকিয়ে এসেছে। তুলতে যাবে এমন সময় হঠাৎ কোত্থেকে এক ঝাঁক সাদা টিয়া আর হলুদ টিয়া এসে ধানের ওপর বসল। একটা-দুটা করে এক নিমিষে সব ধান খেয়ে শেষ করে ফেলল। মেয়েটি তাদেরকে অনেক নিষেধ করল। বলল, লক্ষ্মী টিয়ারা, তােমরা ধান খেয়াে না। বাবা-মা ফিরে এসে ধান না-দেখলে আমাকে মেরে ফেলবে।’ টিয়ারা বলল, আমরা একটু খাব, মা-বাবা বকলে, মারলে, আমাদের কাছে চলে এসাে। সন্ধ্যায় মা-বাবা ফিরে এসে ধান না-দেখে মেয়েকে ভীষণ বকুনি দিল। তারা মনে করল সে নিশ্চয় পাহারা দেয়নি।

পরদিন তারা আবার ধান শুকাতে দিয়ে গেল। সেদিনও একই ঘটনা ঘটল। সেদিন মা-বাবা মেয়েকে অলস ভেবে ভীষণ মারধর করল। মেয়েকে সাবধান করে বলল, আবার যদি টিয়াদেরকে ধান খাওয়াস তাহলে তােকে মেরে তাড়িয়ে দেব।’ তার পরদিনও ধান শুকাতে দিয়ে গেল। মেয়েটি শত চেষ্টা করেও টিয়াদেরকে বারণ করে ধান রাখতে পারল না। সে বসে কাঁদতে লাগল। মা-বাবা ফিরে এসে বুঝতে পারল একই ঘটনা। এতে আর কোনাে ভুল নেই। যেই কথা সেই কাজ। মেয়েকে তাড়িয়ে দিল। মেয়েটি কাঁদতে কাঁদতে টিয়াদের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ল। অচেনা পথে যেতে যেতে যখন ক্লান্ত শ্রান্ত হয়ে পড়ল, তখন একজন রাখালের দেখা পেল। মেয়েটি রাখালকে জিজ্ঞেস করল, রাখাল ভাই, তুমি কি সাদা টিয়া, হলুদ টিয়ার দেশের সন্ধান দিতে পার?’ রাখাল উত্তর দিল-

লক্ষ্মী মেয়ে বলছি তােমায় শােনাে,
সাদা টিয়ে হলুদ টিয়ের সন্ধান তােমায় দেবাে।
এক মুঠো ভাত, এক আঁজলা পানি খেয়ে একটু জিরিয়ে নাও
তারপরেতে সােজা ওই দক্ষিণপূর্ব দিকে যাও।



মেয়েটি তাই করল। একটু বিশ্রাম করে আবার পথ চলা শুরু করে দিল। যেতে যেতে এবার পৌঁছাল মেষপালকের কাছে। মেয়েটি মেষপালককে জিজ্ঞেস করল, ‘মেষপালক ভাই, তুমি কি সাদা টিয়া হলুদ টিয়ার দেশ কোনদিকে বলতে পার?’ মেষপালক মেয়েটিকে আদর যত্ন করে বসতে দিল। বলল –

লক্ষ্মী মেয়ে শােনাে তােমায় বলি
এক মুঠো ভাত, এক আঁজলা পানি খাও, এই অনুরােধ করি।
সাদা টিয়ে হলুদ টিয়ের দেশে যেতে চাও
তাে দক্ষিণপূর্ব দিকের পথটি ধরে যাও।

মেয়েটি মেষপালকের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে এগিয়ে চলল। সারাদিন যেতে যেতে সন্ধ্যায় পরিশ্রান্ত হয়ে এক অশরক্ষকের কাছে পৌঁছাল। সে অশ্বরক্ষককে সাদা টিয়া, হলুদ টিয়ার দেশে যাবার রাস্তা দেখিয়ে দিতে বলল। অশ্বরক্ষক বলল-

লক্ষ্মী মেয়ে, এক মুঠো ভাত, এক আঁজলা পানি খাও
শ্রান্ত তুমি, একটু জিরিয়ে নাও।
দক্ষিণপূর্ব দিকে তােমায় যেতে হবে
সাদা টিয়ে, হলুদ টিয়ের দেখা তবে পাবে।